বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
বাবার সঙ্গে গোসলে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুর মৃত্যু সাবেক ছাত্রদল নেতাকে পেটালেন ইউএনও, থামালেন এসিল্যান্ড ছাত্রদলকে ‘টোকাই’ বলার প্রতিবাদ, রায়হান সিরাজীর বিরুদ্ধে গংগাছড়ায় বিক্ষোভ শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ লালমনিরহাটে মাদক মামলায় দুই জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড লাইসেন্স নেই, পরীক্ষার রিপোর্টে গরমিল: সেই মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক বন্ধ ঘোষণা দেশের ৮০ টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি লালমনিরহাটে শিক্ষক সামলান সন্তান, ক্লাস নেন নৈশপ্রহরী; প্রতিবাদে শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ! লালমনিরহাটে ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুইজন আটক গাজীপুরের কাশিমপুরে বিএনপির মিলন মেলা অনুষ্ঠিত
লাইসেন্স নেই, পরীক্ষার রিপোর্টে গরমিল: সেই মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক বন্ধ ঘোষণা

লাইসেন্স নেই, পরীক্ষার রিপোর্টে গরমিল: সেই মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক বন্ধ ঘোষণা

মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার প্রতিবেদনে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগের পর সরেজমিনে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স না পাওয়ায় পঞ্চগড় জেলা শহরের তেঁতুলিয়া রোডের আনোয়ার প্লাজার মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা যকৃতের পরীক্ষার প্রতিবেদনের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানে করা একই পরীক্ষার প্রতিবেদনে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়ার অভিযোগ করেন রোগী সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪)। এ ঘটনায় তিনি পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যকৃতের সমস্যায় ভুগছেন সাইদুজ্জামান রেজা। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে যকৃতের এসজিপিটি পরীক্ষা করান। সেখানে তার পরীক্ষার ফল আসে ১২৭ ইউএল। চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আবারও পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

এরপর একই দিন মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে একই পরীক্ষা করান সাইদুজ্জামান। সেখানে তার প্রতিবেদনে এসজিপিটি মাত্র ২৬ দশমিক ৭ ইউএল দেখানো হয়। দুটি প্রতিবেদনের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখে সন্দেহ তৈরি হয় তার মনে।

সঠিক ফলাফল জানতে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে পরদিন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে আবারও একই পরীক্ষা করান। সেখানে তার এসজিপিটি পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় ১২১ ইউএল।

একই পরীক্ষায় তিনটি প্রতিষ্ঠানে তিন ধরনের ফল পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং প্রতারণার অভিযোগ এনে ১১ আগস্ট সকালে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সাইদুজ্জামান রেজা।

অভিযোগ পাওয়ার পর ১২ আগস্ট সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরেজমিনে পরিদর্শনে যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ লাইসেন্স যাচাই করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি বলে জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

পঞ্চগড় সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্মারক নম্বর সিএ-স/পঞ্চ/প্রশা/২০২৬/৯৪৫, তারিখ ১২ আগস্টের নির্দেশনায় বলা হয়, লাইসেন্স না থাকায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলো। লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরপর প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেছি এবং তাদের কাগজপত্র যাচাই করেছি। প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না করা পর্যন্ত তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করতে পারবে না।’

এ ঘটনায় রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছিল। একই সঙ্গে পরীক্ষার প্রতিবেদনে গরমিলের অভিযোগের বিষয়টিও যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com